বৈভাষিক | বৈভাষিক পত্রিকা
16775
page-template-default,page,page-id-16775,page-parent,woocommerce-no-js,ajax_fade,page_not_loaded,,qode-title-hidden,columns-4,qode-theme-ver-10.0,wpb-js-composer js-comp-ver-4.12,vc_responsive

সম্পাদক

রমিত দে

অভিষেক ঝা

সহসম্পাদক

সৌনক দাশগুপ্ত

কৃশানু দাস

সম্পাদকীয়

 

#metoo

 

নারীর যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল সাইটে চলছে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের হাল্লাবোল। স্বভাবতই উঠে এসেছে নারীর মূল্য নির্ধারণ বা ব্যক্তিনারীতে উত্তরণ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া সহ হাজারো তর্ক। ‘আমিও’ নামে হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়ার পাতায় পাতায়। কিন্তু এর পরেও প্রশ্ন থেকে যায় সামাজিক জাড্যতার দু তিনটে পাথর খসলেও আজও কি আমাদের আভ্যন্তরীণ জীবনের মতাদর্শগত বিশ্বাস এই অচলায়তন ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট? এ প্রশ্ন আমি নিজেকে করলাম। কিন্তু যারা টোটাল থিংকার নামে ব্যাক্তির বায়ো এথিকাল প্রশ্নের ধ্বজাধারী, তারাও কি অনুস্তরীয় সমাজের চিন্তাশিখরে উপনীত হতে পেরেছেন? যদি না পারেন তার কারণ সম্ভবত নারীকে কেবল আরেকজন করে দেখার উপায় নয় বরং সাথে সাথে পুরুষটিকে একটি নাছোড়বান্দা প্রতাপী চরিত্রে গড়ে তোলার অদম্য বাসনা, তাই হয়ত ‘মি-টু’ এর সাথে সাথেই এই সোশাল মিডিয়াতেই ‘আই হ্যাভ’ হ্যাশ ট্যাগ লিখেও যে দোষ স্বীকারের সাহস দেখাচ্ছেন নানা বয়সের পুরুষ তা আমাদের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে,অজানা থেকে গেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এহেন বিপ্রতীপ স্রোত কেন সমাজের যৌগিকতাকে যাচাই করার নতুন মাপক হতে পারে না। এমন অজানার কোনো শেষ নেই।

 

এত কথা বলছি কারণ আগাছার মত অসুখ বাড়ছে পৃথিবীতে। বলছি না ভুল রাস্তা ধরলাম আমরা তবে আজ জানা অজানার অনেকটাই স্রেফ একরকমের বিশ্বাস। বলা ভাল বিশ্বাসের পাঁকে ডুবিয়ে দেওয়ার অদম্য চেষ্টা এবং এই জাতীয় বিশ্বাসের শৃঙ্খলা থেকে বেরোনো কঠিন। কারণ সামাজিক দায়িত্ব নির্ধারণের এই লঘুভাষায় যতটা বিশ্বাস ততটাই বিস্ফোরক শূন্যতা। এই যেমন ধরুন কাজিও ইসিগুরো নোবেল পাচ্ছেন একদিকে তো অন্যদিকে আমরা তার সাহিত্য ছেড়ে নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠছি, তিনি এশিয়ান নাকি জাপানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ – এমনই অযথার্থ ভাষ্যে বদলে যাচ্ছে ব্যক্তির প্রকৃত পাঠ। আবার কিছুদিন আগেও অসহিষ্ণুতা আর মৌলিক অধিকার হয়ে উঠেছিল আলোচনার মুখ্য বিষয়, তাকে ঠেলে এগিয়ে এল ধর্ষক  সন্ত,  আবার বাবাজীকে জেলে ঢুকিয়ে প্রচ্ছদকাহিনী হয়ে উঠল রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা। দিশেহারার মত প্রদক্ষিণ করছে নিত্যদিনের কাহিনী। আর এই কাহিনীর ভেতর কোনো বৃষ্টি নেই কেবল বুটের আওয়াজ। ডিসিশন এণ্ড ডায়জেস্ট –এর বাইরে ,পৃথিবীতে যেন আজ আর একে অপরকে বলার মত কিছু নেই। মানুষ যেন নিজেরই এক বিশাল পেপার কাট আউট নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার নিজের সামনে।

 

যেন একটা নেই রাজ্য নেই দেশ নেই সমাজে কেবলমাত্র একটা রিলেটিভ রিয়ালিটি হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছি আমরা। যেন বেরোবার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছি আমরা। যত দ্রুত ঘটনা ঘটছে ততোধিক দ্রুততায় তার প্রতিবেদন লঘু ভাষায় তার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকারই যেন এই বর্ণিত সময়। এমনই এক ধ্বস্ত শূন্যতার ভেতর দাঁড়িয়ে আমরা চেঁচাবার চেষ্টা করছি, রোখ বাড়ছে, আর বারবার একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে শব্দের ক্যালিগ্রাফি দিয়ে সব ধরনের সামাজিক মানবিক চিন্তার কেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করা কতটা সম্ভব? ভাষার পালিশ পাথর দিয়ে জীবনকে পালিশ করে নিলেও চারদিকের এতশত ভোঁতা ছুরি বা বাঁশের চোয়ারির সামনে ফালাফালা হয়ে যাচ্ছে যে মানুষটি, তাকে স্রেফ ভাষা দিয়ে বাঁধব কিভাবে?

 

বরাবরই এই দ্যোতনাকে, মুক্ত পরিসরকেই আবিষ্কারের তাড়নায় মেতেছে বৈভাষিক। বাইরে থেকে সহজ চেনা ভঙ্গীকে চূড়ান্ত ও ধ্রুব বলে মেনে নেওয়ার রীতি ও আবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চেয়েছে। বাঙালীর তের পার্বণের যখন প্রায় সবটুকুই শেষ, অর্থাৎ পূজ়ো আসা অবধি বাঙালীর যে যে গল্প থাকে সেগুলোর আবার শুরু, তখনই একই সাথে ছেড়ে যাওয়া এবং আঁকড়ে থাকার এমন এক সন্ধিক্ষণে আজ তাই বৈভাষিকের নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া হল। কি দরকার ছিল? যন্ত্রবৎ এ প্রশ্ন যে মনে আসেনি তা নয়, আবার কেটেও গেছে স্বাভাবিক স্বপ্রতিভতায়, ঘুরে ফিরে এসেছে আবার।প্রথম প্রথম ব্যাপারটা ছিল প্রকাশনী সংস্থার ওয়েবসাইট লঞ্চিং, যাতে লেটেস্ট আপডেট পেয়ে যেতে পারেন পাঠক, কিন্তু এর পরেই বাণিজ্যিক রাঙা ধূলো আর দূরে দূরে রোদবাতির মাঝে এল আশ্চর্য সেই রন্ধনশালার প্রস্তাব।আক্ষরিক অর্থেই রান্নাঘর, যেখানে কিটকিট করে পোকা ডাকছে রাঁধিয়ে বাড়িয়ে আর পাঁচজনের সাথে ভাগ করে নেওয়ার। বৈভাষিক ওয়েবজিন মূল অর্থে একটি পরিবার যা ক্রমশ সুস্বাদু করে তুলবে ‘পাঠক’ শব্দটাকে– ঠিক এমন একটা ভাবনা থেকেই আমাদের পরের দৃশ্যে যাওয়ার এই তোড়জোড়। সাহিত্যকে কেবল দূরত্বের পরিপ্রেক্ষনী হিসেবে দেখতে আমি পারিনা, আমরাও পারিনি, তাতে শব্দ পাওয়া গেলেও সুর কোথাও পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ থেকেই যায়। ফলে বাঁশের চোঙা দিয়ে বৈভাষিকের পাকশালায় ফুঁ দিতেই পাঠক যেন  নিজের স্পর্শকে স্পর্শ নয় বরং ছ্যাঁকার মত অনুভব করতে পারে। এটুকুই প্রত্যাশা। শুনতে পায় নতুন করে বাসন-কোসন পাড়ার আওয়াজ। সেই চেনা শব্দ সেই নিয়মিত বিভাগ সেই মসৃণ কথা আর শোনা কথোপকথন, কেবল একজন সম্পাদক যে এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে চায় তা না, পাঠকও চায়। শিল্পের বানিয়ে তোলা জগত থেকে পাঠককে কেবল সত্যের সামনে আনার প্রয়াস বৈভাষিকের নতুন ওয়েবজিন। গ্লোবালাইসড পৃথিবীর সাথে পাঠক পরিভ্রমণ করুক, তুলে নিয়ে আসুক তারই দৃশ্যমান প্রতিনিধিকে। যার জন্য রইল পাঠ আন্তর্পাঠের বিচিত্র জগত, রইল নাটক, সামাজিক ইতিহাস চর্চা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অনুবাদমালা। এবং বাঙলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কথাকারদের গল্প গদ্যের পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্যের সম্ভার। পুরো কাজটা করতে গিয়ে টের পেলাম একজন সম্পাদকের ধর্মসংঘাত, একদিকে পরমতসহিষ্ণুতা রক্ষার দায় অন্যদিকে মধ্যবিত্ত দোদুল্যমানতা আর সচেতনভাবে গা বাঁচানোর দূরত্ব রক্ষার সমীকরণ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব।

 

ফালগুনী রায়ের একটা কবিতার শিরোনাম ছিল ‘আমরাই রেঁনেসা ও রেজারেকশন”। না এভাবে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠার কোনো দায় নেই বৈভাষিকের, তবে অবশ্যই একটা বিষমবাহু ত্রিভূজ হয়ে ওঠার আকাঙ্খা রয়েছে পুরোদস্তুর। পত্রিকার মধ্যে দিয়ে আমরা খালি চেয়েছি মানুষ শব্দটার মৌলিক তাৎপর্য,বিশ্ব শব্দটার ধরতাই একটা বয়ান। সাহিত্য দিয়ে জীবনের জল্পনা করা যায় কিনা সে তর্কের চেয়ে বলি সাহিত্যকে জীবনের প্রতিশব্দ ধরে নিয়েই বৈভাষিকের এ যাত্রা শুরু …

 

আর একটা কথা না বললেই নয়, তা হল কোনো মূর্তিমান খলনায়ক হওয়ার প্রবচনা যেমন নেই বৈভাষিকের তেমনি নায়ক শব্দটার ব্যুৎপত্তি উদ্ধারের এ আয়োজন নয়। বরং বৈভাষিকের পাকশালের প্রথম মেনুকার্ড দেখে পাঠক বুঝতে পারবেন কারা লিখল, কিন্তু চেখে দেখাবার নীতিতে আমরা যেহেতু বিশ্বাসী নই, তাই বলব গোগ্রাসে গিলুন, যতটা পারবেন, নন্দনচর্চার দোহাই দিয়ে ঠিক যে সম্পূর্ণতার সামনে বাঙালী পাঠককে আজকাল বড় অসম্পূর্ণ আর আড়ষ্ট থাকতে হয়, সেই অসম্পূর্ণতাকেই আজ আত্মসাৎ করুন।

 

আমাদের প্রতিটি পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীকে বৈভাষিকের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

 

চরৈবেতি..

ইরেজার

অমিতাভ মৈত্র

    অসীম মৌলিকের বাড়ি

    আর্যনীল মুখোপাধ্যায়

      বাতিল রাশ

      অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

        সাহিত্য ও প্রতিরোধের রাজনীতি

        সম্রাট সেনগুপ্ত

          খসড়ার মতো

          সেঁজুতি দত্ত

            গৃহস্থগীতি

            সম্বিত বসু

              শরীর, তোমার মন

              চন্দন সেন

                প্রতিপক্ষ

                অধীশা সরকার

                  ঘরে না ফেরার গল্প

                  আনসারউদ্দিন

                    অন)স্তিত্ব আখ্যান

                    অনুবাদ গল্প

                      অস্থিরতার আখ্যান

                      অনুবাদ গল্প